বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন চিকিৎসার জন্য অনেকে সিঙ্গাপুরে আসেন। উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য সিঙ্গাপুর এশিয়াতে মেডিকেল ট্যুরিজমের কেন্দ্র হিসেবে পরিগনিত হচ্ছে। প্রতিবছর গড়ে দুই লক্ষ রোগী সিংগাপুরে চিকিৎসা সেবা নেয়ার জন্য আসেন। এ থেকে সিঙ্গাপুর সরকারের আয় হয় বছরে তিন বিলিয়ন ডলার। সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশীদেরকে সাধারনত শ্রমিক হিসেবে বেশ ছোট মনে করা হলেও রোগী হিসেবে আমাদেরকে অত্যন্ত সমাদর করা হয়! বেশ কয়েক বছর আগে স্থানীয় খবরে শুনেছিলাম বিদেশী রোগীর প্রায় ৩০% বাংলাদেশ থেকে আসে। হাসপাতালগুলোতে যেকোন সময় হাঁটাহাঁটি করলে বাংলাদেশী চোখে পড়া নিত্তনৈমত্তিক ব্যাপার।
বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কিন্তু বিশ্বের উন্নত দেশের তুলনায় চিকিৎসা ব্যয় সিঙ্গাপুরে কম। এখানে চিকিৎসার মান উন্নত বিশ্বের মতই। উদাহরন দিলে সহজে বোধগম্য হবে। শেষ পর্যায়ের ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা করাতে আমেরিকাতে সাধারনত ২৩৫,০০০ ডলার খরচ হয়, কিন্তু সিংগাপুরে একই ট্রিটমেন্ট করাতে খরচ হয় ৭২,০০০- ৯০,০০০ ডলার।
ব্যক্তিগত পেশা হিসেবে আমি হেলথ সেক্টরে জড়িত। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি যারা সিঙ্গাপুরে আসেন তারা শুধুমাত্র তথ্যের অভাবে প্রথম দিকে অসহায় ও অস্থিরতায় ভোগেন। তাছাড়া তথ্য না জানার কারণে ব্যয়ের পরিমান বাড়তেই থাকে। অবাক ব্যাপার হচ্ছে তথ্যের সহজলভ্যতা, পাবলিক সার্ভিস ও ব্যবস্থাপনার জন্য সিঙ্গাপুর বিশ্বে বিখ্যাত। এসবই হচ্ছে সিংগাপুরের উন্নতির অন্যতম কারণ। জাস্ট একটু ধারণা থাকলেই অনেক বৈদাশিক মুদ্রার অনাকাংখিত খরচ থেকে দূরে থাকা সম্ভব।
সরকারী ও প্রাইভেট চিকিৎসা সেবা
সিঙ্গাপুরে সরকারী ও প্রাইভেট এই দু-ধরণের চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়। এখানে যেকোন প্রাইভেট সার্ভিসের তুলনায় সরকারী সার্ভিস ভাল, যেটি আমাদের দেশে পুরো উলটো। আমাদের দেশের মন্ত্রী, সচিব ও বড় বড় ব্যবসায়ী রোগীদের বড় অংশ প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। সে হিসেবে মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটাল বেশ পরিচিত। এসব ক্লিনিকে চিকিৎসা ব্যয় সরকারী হাসপাতালের তুলনায় অনেক বেশী। কিন্তু মানের দিক থেকে সরকারী হাসপাতাল উপরে! প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ব্যবসা করা। অন্যদিকে সরকারী সিস্টেম শুধু ব্যবসার সাথে জড়িত নয়। এর সাথে দেশের ভাবমূর্তিও জড়িত রয়েছে। প্রসংগত, ক্যান্সার রোগী ক্ষেত্রে অনেক সময় কেমোথেরাপী (সাধারনত ৩০-৬০ লক্ষ টাকার মত খরচ হয়) তেমন দরকার না হলেও প্রাইভেট ক্লিনিক কিন্তু তা ব্যবস্থাপত্র হিসেবে দিতে পারে। কিন্তু সরকারী হসপিটালে এক্ষেত্রে অনেক ভেবে চিনতে সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়টি অন্তত আমার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জোর দিয়ে বলতে পারি।
সিঙ্গাপুরের কয়েকটি উল্লখেযোগ্য সরকারী হসপিটাল গুলো হচ্ছে-
বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কিন্তু বিশ্বের উন্নত দেশের তুলনায় চিকিৎসা ব্যয় সিঙ্গাপুরে কম। এখানে চিকিৎসার মান উন্নত বিশ্বের মতই। উদাহরন দিলে সহজে বোধগম্য হবে। শেষ পর্যায়ের ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা করাতে আমেরিকাতে সাধারনত ২৩৫,০০০ ডলার খরচ হয়, কিন্তু সিংগাপুরে একই ট্রিটমেন্ট করাতে খরচ হয় ৭২,০০০- ৯০,০০০ ডলার।
ব্যক্তিগত পেশা হিসেবে আমি হেলথ সেক্টরে জড়িত। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি যারা সিঙ্গাপুরে আসেন তারা শুধুমাত্র তথ্যের অভাবে প্রথম দিকে অসহায় ও অস্থিরতায় ভোগেন। তাছাড়া তথ্য না জানার কারণে ব্যয়ের পরিমান বাড়তেই থাকে। অবাক ব্যাপার হচ্ছে তথ্যের সহজলভ্যতা, পাবলিক সার্ভিস ও ব্যবস্থাপনার জন্য সিঙ্গাপুর বিশ্বে বিখ্যাত। এসবই হচ্ছে সিংগাপুরের উন্নতির অন্যতম কারণ। জাস্ট একটু ধারণা থাকলেই অনেক বৈদাশিক মুদ্রার অনাকাংখিত খরচ থেকে দূরে থাকা সম্ভব।
সরকারী ও প্রাইভেট চিকিৎসা সেবা
সিঙ্গাপুরে সরকারী ও প্রাইভেট এই দু-ধরণের চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়। এখানে যেকোন প্রাইভেট সার্ভিসের তুলনায় সরকারী সার্ভিস ভাল, যেটি আমাদের দেশে পুরো উলটো। আমাদের দেশের মন্ত্রী, সচিব ও বড় বড় ব্যবসায়ী রোগীদের বড় অংশ প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। সে হিসেবে মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটাল বেশ পরিচিত। এসব ক্লিনিকে চিকিৎসা ব্যয় সরকারী হাসপাতালের তুলনায় অনেক বেশী। কিন্তু মানের দিক থেকে সরকারী হাসপাতাল উপরে! প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ব্যবসা করা। অন্যদিকে সরকারী সিস্টেম শুধু ব্যবসার সাথে জড়িত নয়। এর সাথে দেশের ভাবমূর্তিও জড়িত রয়েছে। প্রসংগত, ক্যান্সার রোগী ক্ষেত্রে অনেক সময় কেমোথেরাপী (সাধারনত ৩০-৬০ লক্ষ টাকার মত খরচ হয়) তেমন দরকার না হলেও প্রাইভেট ক্লিনিক কিন্তু তা ব্যবস্থাপত্র হিসেবে দিতে পারে। কিন্তু সরকারী হসপিটালে এক্ষেত্রে অনেক ভেবে চিনতে সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়টি অন্তত আমার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জোর দিয়ে বলতে পারি।
সিঙ্গাপুরের কয়েকটি উল্লখেযোগ্য সরকারী হসপিটাল গুলো হচ্ছে-
National University Hospital, Alexandra Hospital , Changi General Hospital, Khoo Teck Puat Hospital, Singapore General Hospital, and Tan Tock Seng Hospital।
সিঙ্গাপুরের কিছু সরকারী Specialist Centre: Johns Hopkins Singapore International Medical Centre, Communicable Disease Centre, National Dental Centre, National Skin Centre, KK Women's and Children's Hospital, National Neuroscience Institute, Institute of Mental Health, Singapore National Eye Centre, National Cancer Centre
শিশুদের ও মহিলাদের জন্য KK Women's and Children's Hospital অন্যতম। অন্যদিকে ক্যান্সারের ক্ষেত্রে National Cancer Centre প্রথম চয়েস হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ থেকে এসমস্ত সরকারী প্রতিষ্ঠান/হসপিটালে চিকিৎসা সেবা নিতে হলে সহজেই যোগাযোগ করা যায়। আমাদের দেশের ক্ষেত্রে সামনা-সামনি যোগাযোগ না করলে সহজে কাজ হতে চায় না। কিন্তু সিঙ্গাপুরে ফোন বা ই-মেইল যোগাযোগ বেশী কার্যকরি। বরং সামনা-সামনি যোগাযোগকে নিরুতসাহিত করা হয়। বাংলাদেশ থেকে সিংগাপুরে ফোনে যোগাযোগ করা অত্যন্ত সহজ। টিএনটি’র ফোনে মিনিটে ৭ টাকা হিসেবে ফোন করা যায়। সর্বপ্রথম যোগাযোগ হিসেবে ই-মেইলেই সুবিধাজনক। পরবর্তীতে ফোনেও যোগাযোগ করা যেতে পারে।
চিকিৎসার সংক্রান্ত তথ্য যোগাযোগ করতে হলে রোগীর সংক্ষিপ্ত বিবরন (Disease sumarry) ও গুরুত্বপুর্ন মেডিক্যাল রিপোর্ট স্কান কপি করে ই-ইমেলে পাঠাতে হবে। এই তথ্য দিয়ে সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট হসপিটালের উপযুক্ত চিকিৎসা ডিপার্টমেন্টের সাথে পরামর্শ করে ই-মেইলের উওর দিবে এবং খরচ সম্পর্কে মোটামুটি ধারনা দিবে। একটি Disease sumarry’র নমুনা-
Name: XX সিঙ্গাপুরের কিছু সরকারী Specialist Centre: Johns Hopkins Singapore International Medical Centre, Communicable Disease Centre, National Dental Centre, National Skin Centre, KK Women's and Children's Hospital, National Neuroscience Institute, Institute of Mental Health, Singapore National Eye Centre, National Cancer Centre
শিশুদের ও মহিলাদের জন্য KK Women's and Children's Hospital অন্যতম। অন্যদিকে ক্যান্সারের ক্ষেত্রে National Cancer Centre প্রথম চয়েস হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ থেকে এসমস্ত সরকারী প্রতিষ্ঠান/হসপিটালে চিকিৎসা সেবা নিতে হলে সহজেই যোগাযোগ করা যায়। আমাদের দেশের ক্ষেত্রে সামনা-সামনি যোগাযোগ না করলে সহজে কাজ হতে চায় না। কিন্তু সিঙ্গাপুরে ফোন বা ই-মেইল যোগাযোগ বেশী কার্যকরি। বরং সামনা-সামনি যোগাযোগকে নিরুতসাহিত করা হয়। বাংলাদেশ থেকে সিংগাপুরে ফোনে যোগাযোগ করা অত্যন্ত সহজ। টিএনটি’র ফোনে মিনিটে ৭ টাকা হিসেবে ফোন করা যায়। সর্বপ্রথম যোগাযোগ হিসেবে ই-মেইলেই সুবিধাজনক। পরবর্তীতে ফোনেও যোগাযোগ করা যেতে পারে।
চিকিৎসার সংক্রান্ত তথ্য যোগাযোগ করতে হলে রোগীর সংক্ষিপ্ত বিবরন (Disease sumarry) ও গুরুত্বপুর্ন মেডিক্যাল রিপোর্ট স্কান কপি করে ই-ইমেলে পাঠাতে হবে। এই তথ্য দিয়ে সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট হসপিটালের উপযুক্ত চিকিৎসা ডিপার্টমেন্টের সাথে পরামর্শ করে ই-মেইলের উওর দিবে এবং খরচ সম্পর্কে মোটামুটি ধারনা দিবে। একটি Disease sumarry’র নমুনা-
Age: 6 years
Height and weight: 45 inches and 16 kg.
Disease Diagnosed: Hepatoblastoma in middle of the right lobe. The mass is about 79mm/78mm in size.
First detected on: June 2011
Patient background:
(1) Pre-mature baby with low birth weight . Still his body weight is lower than average.
(2) Stomach pain from birth. Had lactose intolerance, upper stomach swelling, lack of appetite.
(3) Recently, he had suffered from 3 episodes of high fever with stomach swelling. After the 3rd episode he was diagnosed with Hepatoblastoma. Last time the fever continued for 20-23 days.
Current status: Received 3 doses of chemotherapy. His conditions are mentioned as clinically improved. Currently he does not have fever, stomach pain or swelling. His appetite also improved.
চিকিৎসা ব্যয় সংক্রান্ত বিষয়াদি
এটা অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। রোগের ধরন ও চিকিৎসা কত দিন স্থায়ী হয় তার উপর খরচ নির্ভর করে অনেকখানি। কেমোথেরাপী নিতে হলে বেশ কয়েক সপ্তাহ অবস্থান করতে হয়। এক্ষেত্রে হোটেলের বিল অনেক হতে পারে। তাছাড়া হিডেন কস্ট বা গুপ্ত খরচ রয়েছে অনেক। এজন্য অনেকে এসমস্ত ধারণা না নিয়েই বিদেশে এসে বিপদে পড়ে যান। আমাদেরকে অনেক সময় এজন্য ডোনেশন ড্রাইভও করতে হয়েছে। কিছু পরামর্শ অনুযায়ী চললে অনেক বৈদাশিক মুদ্রার অপচয় রোধ করা সম্ভব। যেমন-
১। খরচ কমানোর জন্য তুলনামূলক তথ্য অনেক কার্যকরী। এজন্য বিভিন্ন হসপিটালে যোগাযোগ করতে হবে। যদিও খরচের তারতম্য তেমন বেশী নয়, কিন্তু বাংলাদেশী টাকা হিসেবে অনেক সময় কমও নয়।
২। বিভিন্ন মানের ও দামের হোটেল পাওয়া যায়- এটা সাধারনত ৫০০ ডলার থেকে শুরু করে ২০ ডলার পর্যন্ত রয়েছে। সিংগাপুরে যাওয়ার আগে এসম্পর্কে জেনে গেলে ভাল হয়। ইন্টার্নেট সার্চ করলে সহজেই পাওয়া ও অনলাইন বুকিং বা ফোন বুকিং দেয়া যায়। যেমন এই ওয়েবসাইটে কম দামের হোটেল পাওয়া যেতে পারে-http://www.hotels.com/de1655844-st2/two-star-hotels-singapore-singapore/?gclid=CMTH98Hl8aoCFUR76wod4y1KPQ
৩। দীর্ঘ মেয়াদী ট্রিটমেন্ট নিলে বাংলাদেশী কোন বাসায় সাব-লেট হিসেবে ভাড়া নেয়া যায়। এর জন্য আগে থেকে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করা যেতে পারে। অন্যদিকে, সাধারন মানের এপার্টেমেন্টও ভাড়া নেয়া যায়। এ জাতীয় তথ্য অন-লাইন সার্চ করলেও পাওয়া যায়। অন্যথা সিঙ্গাপুর এসে Serangoon Road-এ মোস্তফা প্লাজার কাছাকাছি খোঁজ করলেই অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।
৪। ট্যাক্সি ব্যবহারে অনেক খরচ হয়। সিংগাপুরের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বিশ্বে সবচেয়ে উন্নত ও সহজলভ্য। অতিরিক্ত জ্যাম কমানোর জন্য পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াতকে উৎসাহিত করা হয়। যেকোন রেইল স্টেশন (MRT station) থেকে ১০ ডলারের কার্ড পাওয়া যায়। এটি দিয়ে ট্রেন ও বাস দুটোতেই যাতায়ত করা যায়। সিঙ্গাপুরে যাতায়ত অত্যন্ত সহজ। ম্যাপ অনুসরণ করে যে কেউ যেকোন জায়গায় ভ্রমন করতে পারেন। রাস্তা বা ঠিকানা জানার জন্য আমাদের দেশের মানুষ জন বিদেশে সাধারনত পথচারীকে জিজ্ঞাসা করতে চান না। এজন্য অনেকে হাঁটা-হাঁটি করতেও রাজী। কিন্তু কেউ কে জিজ্ঞাসা করলেই অতি সহজেই জানা যায়।
কিছু হসপিটালের যোগাযোগের ঠিকানা
National University Hospital
International Patient Liaison Centre (IPLC)
Helpline: (65) 6779 2777
Fax: (65) 6777 8065
email : iplc@nuhs.edu.sg
Website:
KK Women's and Children's Hospital
International Medical Services
Phone: (65) 6394 8098
Mobile: (65) 8121 1675
Tel : (65) 6394 8888 (Hotline For International Enquiry)
Fax: (65) 6292 5145
Email : international@kkh.com.sg
Website: www.kkh.com.sg
National Cancer Centre Singapore
11 Hospital Drive
Singapore 169610
Phone: (65)- 6236-9433
Email : foreign_patient@nccs.com.sg
website : www.nccs.com.sg
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন